parallax background

দেয়ালভরা রঙের ছোঁয়া!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি

দেয়ালে রঙয়ের নানা আঁকিবুঁকি!

শহরভরা ইট-পাথরের খোপ। বিশেষ করে, বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারিকালীন সময়ে থমকে যাওয়া এই ব্যস্ত শহরের মলিন দেয়ালে জীবনকে খুঁজে পাওয়ায় মুশকিল। কোয়ারেন্টিনে এভাবে সময় কাটাতে আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসে বসে একই পরিবেশে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করছেন? তাহলে এবার শরীরকে একটু কাজ আর মনকে একটু আনন্দের খোরাক দেওয়া যাক! একঘেয়ে সাদামাটা ঘরের দেয়ালগুলোকে নিজের সবটুকু ইচ্ছা আর কল্পনা দিয়ে একদম অন্যরকম করে তুলুন এবার। বার্জারের দারুণ, স্বাস্থ্যকর আর সাশ্রয়ী সব ওয়াল পেইন্ট কালেকশন তো রয়েছেই, এছাড়া নিজে নিজেও পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে দেয়ালে পেইন্ট করে সময়টাকে উপভোগ করতে পারেন আপনি। 

চলুন না, দেয়ালের আঁকিবুঁকি নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক!

কোন দেয়ালে কেমন আল্পনা আঁকবেন?

আসবাবের সাথে মানানসই আল্পনা!

দেয়ালে রঙ করার আগে ঠিক করে নেওয়া ভালো যে, কোন ঘরের দেয়ালে কেমন আলপনা আর ছবি চাচ্ছেন আপনি। ঘরভেদে ভিন্নতা বেছে নিতেই পারেন আপনি। এই যেমন-

  • শোবার ঘরে একটু কম উজ্জ্বল, চোখে শান্তি এনে দেয় এমন রঙ এবং সাথে সীমিত আল্পনার ব্যবহার করতে পারেন। বার্জার পেইন্টসের অনেকগুলো থিম রয়েছে। যেখানে ছোট ছোট আলপনায় ঘর একইসাথে মার্জিত এবং অসাধারণ হয়ে যায়। সেগুলোর কোন একটাও ব্যবহার করতে পারেন আপনি।
  • রান্নাঘরের জন্য আঁকিবুঁকি যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কারণ, রান্নাঘরের দেয়ালগুলো ময়লা হয়ে যায় খুব দ্রুত। বিশেষ করে চুলার পেছনের দেয়ালে কোন আলপনা ব্যবহার না করে আঁকার জন্য বেছে নিন পার্শ্ববর্তী স্টোর রুম এবং চুলার বিপরীত দিকে থাকা দেয়ালটিকে।
বসার ঘরে দারুণ দেয়ালচিত্র!
  • বসার ঘরে উজ্জ্বল এবং দারুণ আঁকিবুঁকি ছড়িয়ে দিতে পারেন আপনি। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতাও আনা সম্ভব। এই যেমন- বসার ঘরে বিশাল একটি গাছ আঁকতে পারেন এবং সেই গাছের বিভিন্ন ডালে পারিবারিক ছবিগুলোকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। শহরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, প্রকৃতি বা বৃষ্টির দৃশ্যকেও ধরে রাখতে পারেন আপনি দেয়ালে। 
  • শিশুদের ঘর মানেই একেবারে অন্যরকম কিছু! তাই আপনার শিশুর ঘরের দেয়ালটি সাজান তার পছন্দের কার্টুন, রঙ আর চরিত্র দিয়ে। এতে করে আপনার শিশু শুধু যে তার ঘরে থাকবে তাই নয়, ঘরকে ভালোও বাসবে। 
শিশুর ঘরে থাকুক তার পছন্দের ছবি!
  • বারান্দায় একটা বাগান করলে কেমন হয়? আর সেই বাগানের আশেপাশে রঙ দিয়েও বারান্দার দেয়ালে বাগানের দৃশ্য একে দিন। দেখতে মোটেও খারাপ লাগবে না!

দেয়ালের যে অংশগুলো রঙয়ের সাঁজে হতে পারে অন্যরকম!

উপরে তো কোন ঘরের দেয়ালে কেমন আঁকিবুঁকি রাখবেন সেটার কথা বলা হলো। কিন্তু এছাড়াও আপনার ঘরের দেয়ালে থাকা নানারকম জিনিসপাতিকে রঙ দিয়ে এঁকেই একদম অন্যরকম একটা চেহারা দিতে পারেন আপনি। কেমন? দেখে নিন তাহলে!

সুইচবোর্ড 

সুইচবোর্ডে গল্প আঁকুন!

প্রতিটি ঘরেই নিশ্চয় সুইচবোর্ড রয়েছে? সেগুলোকে রঙ দিয়ে দারুণ কিছু করে তুলুন। এই যেমন- সুইচবোর্ডকে বাড়ি হিসেবে ধরে নিয়ে সেটার উপরে একটা বড় ছাদ এবং চারপাশে গাছপাতা করে দিন। দারুণ লাগবে তাই না? 

ফাটল

দেয়ালের ফাটলে এমন শৈল্পিক চিত্র একে ফেলতেই পারেন!

দেয়াল মানেই সেখানে ফাটল ধরবেই। সেই ফাটলগুলোকেই রোমাঞ্চকর আর অন্যরকম কিছু করে ফেলুন। বিশাল কোন গুহা থেকে শুরু করে গাছের শিকড় বা ডালপালা- ফাটলের সেই চির থেকে হতে পারে এমন অনেক কিছু। চাঁদেও তো ফাটল দেখা যায়। তাহলে একটা চাঁদই কেন একে ফেলছেন না! 

টেলিভিশনের চারপাশে

টেলিভিশনের চারপাশ জুড়ে থাকুক মুগ্ধতা!

টেলিভিশনের দিকে আমরা অনেকটা সময় তাকিয়ে থাকি। তাই ইচ্ছে করলে টেলিভিশনের চারপাশের দেয়ালটাকে একঘেয়ে করে না রেখে নানারকম আল্পনা আর ছবি একে দিতে পারেন। টেলিভিশনের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটা বাঘ বা টেলিভিশনের পাশ দিয়ে ঝুলে থাকা একটা পাণ্ডা বা বানরও হতে পারে সেটা। 

আয়না ও খাট

বিছানার ঠিক মাথার কাছে জুড়ে থাকুক আল্পনা!

দেয়ালে আয়না ঝুলে আছে একা একা? আয়নার চারপাশে নানারকম ছবি আঁকুন। প্রাণী না হলেও একটা বা অনেকগুলো ফুল ও পাতা একে ফেলুন। দেখতে অসাধারণ লাগবে। ঠিক একই কাজটা আপনি করতে পারেন শোবার ঘরের খাটের মাথার পেছনে থাকা দেয়ালেও।

কেমন রঙ বাছবেন?

আপনি যদি বার্জার থেকে কোন ইলিউশন পছন্দ করেন তাহলে সেক্ষেত্রে খুব একটা ঝক্কি পোহাতে হবে না আপনাকে রঙ নিয়ে। কিন্তু নিজে যদি কোন ব্যবস্থা নিতে চান দেয়ালের আঁকিবুঁকি নিয়ে, তাহলে প্রথমে পেন্সিল দিয়ে দেয়ালে হালকা করে ছবি আঁকুন। 

বেছে নিন আপনার পছন্দের রঙয়ের ধরণ!

রঙ করার জন্য ডিসটেম্পার, প্লাস্টিক পেইন্ট, লাক্সারি পেইন্ট, এনামেল পেইন্ট থেকে শুরু করে অ্যাক্রিলিক পেইন্ট, নেইল পলিশ, আইলাইনার, রং-তুলি ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন। তবে আগে রঙ ব্যবহার না করে থাকলে চেষ্টা করুন রঙ একটু ঘন রাখতে। এতে করে রঙ গড়িয়ে পড়বে না।

তাহলে, কী ভাবছেন? দেয়ালের আঁকিবুঁকিটা এবার হয়েই যাক!

  •  
  •  
  •  
  •   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *