parallax background

ঘর সাজুক রঙিন সুতোর কারুকাজে

By Sadia Islam Bristi

শুধু কি সেলাইয়ের কাজেই সুতো ব্যবহার হয়? মোটা রঙিন উলের বল, সেগুলো কি শুধু সোয়েটার আর অন্যান্য ব্যবহার্য তৈরিতে কুশিকাঁটার জন্যই দরকার হয়? একদম না!

পরিচিত এসব কাজের বাইরেও চাইলে সুতো দিয়ে দারুণ সব শোপিস ও ঘর সাজানোর উপকরণ বানাতে পারেন আপনি। ঘরে বসে সহজেই বানিয়ে ফেলার মতো সুতোর কিছু দারুণ কারুকাজের আইডিয়া আজ জানিয়ে দেবো আপনাকে!

দেয়াল সজ্জার উপকরণ

দেয়ালে রঙ দিয়ে কিছু আঁকা নিষেধ? তাতে কী? সুতোর দারুণ কিছু কাজ ঝুলিয়ে দিন দেয়ালে। মোটা উল দিয়ে কাজ করাটাই এক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি কার্যকরী।

তবে ইচ্ছে করলে উল এবং সুতো, দুটোর মেলবন্ধনেই দারুণ সব কারুকাজ, এমনকি চাঁদ, প্রাণীর আকৃতিও তৈরি করে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন আপনি। এটি আপনার ঘরের দেয়ালে ক্লাসি এবং নান্দনিক- দুটো স্বাদই এনে দেবে!

উলের বল

উলের বলগুলো বাসায় অযত্নেই পড়ে আছে? উল দিয়ে খুব বেশি কিছু বানাতে পারছেন না? খুব সহজেই সবগুলো উলের বলকে রঙয়ের মিশেলে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দিন। দেখবেন, বিনা চেষ্টাতেই আপনার ঘরটিকে কী চমৎকারই না দেখাচ্ছে!

আর যদি সরাসরি উলের বল না ব্যবহার করতে চান, তাহলে গোলাকৃতি ফ্রেমের চারপাশে উল জড়িয়ে গোল বল বানিয়ে ফেলুন। উলকে শক্ত করে তুলতে এক্ষেত্রে আইকা ব্যবহার করতে পারেন আপনি। এই বল শুধু দেয়ালের একপাশে নয়, চাইলে টেবিলের মাঝখানে, বসার ঘরের যেকোন স্থানেও ঝুলিয়ে রাখতে পারেন আপনি।

ড্রিম ক্যাচার

অশুভকে দূরে রাখতে অনেকেই ব্যবহার করেন ড্রিম ক্যাচার। অনেকটা মাকড়শার জালের মতো বিছিয়ে থাকা সুতোর কাঠামো এক হয় গোলাকৃতির ফ্রেমে। থাকে নানা রঙ, নানা ডিজাইন। তবে একইসাথে শোবার ঘরের সৌন্দর্যকেও বহুগুণে বাড়িয়ে তলে এই ছোট্ট জিনিসটি!

আলোর বল

একটু আগে তো উলের সুতোয় তৈরি বলের কথা বলাই হয়েছে। তবে এই বলকেই আর আকর্ষণীয় করে তুলতে এর ভেতরে ফেয়ারি লাইট বা মরিচ বাতি জুড়ে দিন। নানান রঙয়ের সুতোর আলোয় হালকা, অথচ অসাধারণ এক আভা ছড়িয়ে পড়বে পুরো ঘরে। দেয়ালে বা সাইড টেবিলের উপরে রাখতে পারেন আপনি এই বল!

গাছ হোল্ডার

সুতোর তৈরি দেয়ালসজ্জার উপকরণ যে শুধু দেয়াল সাজাতেই ব্যবহার করা যাবে তা কিন্তু নয়। ইচ্ছে করলে নানারকম জিনিসপাতি রাখার কাজেও এগুলোকে ব্যবহার করতে পারেন আপনি। থালা-বাসন থেকে শুরু করে গাছ রাখার জন্য কাজে লাগতে পারে দারুণ এই জিনিসটি!

রঙিন ঝালর

কেমন হতো যদি ঝাড়বাতিটা নানান রঙ দিয়ে ভর্তি থাকতো? বেশি জাঁকজমক পছন্দ নয়? নানান রঙ আর ডিজাইন মিলিয়ে ঘরে বসেই বাড়তি কিছু উপাদানের সাথে বানিয়ে ফেলুন সুতোর রঙিন ঝালর। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা এই ঝালরে আপনি বড় একটি সুতোর কাজ ব্যবহার করতে পারেন, আবার থাকতে পারে ছোট ছোট অনেকগুলো ঝালরের সম্মিলন!

আপনি তো বটেই, দোলনায় দুলতে থাকা আপনার শিশুটিও পছন্দ করবে দারুণ এই জিনিসটি!

শোপিস

বাড়িতে জমে যাওয়া কাঁচের বোতল ফেলে দিচ্ছেন? অপেক্ষা করুন আর সবগুলো বোতলকে নিজের পছন্দমতো সুতো দিয়ে ঢেকে দিন। এরপর তাতে আপনি ফুল বা অন্য বাহারি জিনিস রাখতে পারেন। আবার পুঁতি, ফুল বা সুতো দিয়ে বোতলের গায়েও কারুকার্য করতে পারেন!

পুতুল

শুধু সুতো দিয়ে কিংবা সুতো ও কাপড়ের মিশেলে ইচ্ছে করলেই খুব অল্প সময়ে ঘর সাজানোর দারুণ সব পুতুল বানিয়ে ফেলতে পারবেন আপনি। সাথে পুতুলের সাজসজ্জার উপকরণ, এবং নাক-চোখের বোতাম হলে তো কথাই নেই!

আপনার শিশু যেমন এই পুতুল দিয়ে খেলে আনন্দ পাবে, তেমনি ঘরকেও প্রাণোজ্জ্বল করে তুলবে!

ঘর মানেই শান্তি, আনন্দ আর ক্লান্তি দূর করার একমাত্র স্থান। ঘরের প্রতিটি কোনায় তাই জুড়ে থাক চোখের প্রশান্তি, রঙিন সুতোর একটুকরো কারুকার্য। তাহলে, আপনি কবে শুরু করছেন সুতো দিয়ে ঘর সাজানোর চমৎকার এই কাজটি?

  •  
  •  
  •  
  •   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *