parallax background

বাস্কেটে সাজুক ঘর

By Tasnim Jarin

সাজানো-গোছানো একদম টিপটপ একটা ঘর কার না ভালো লাগে। কার্পেট থেকে শুরু করে জানালার পর্দা, আর ড্রেসিং টেবিলে রাখা পারফিউম এর বোতল থেকে শুরু করে ঘরের কোণে পড়ে থাকা টেডি, প্রত্যেকটা জিনিসের জন্যই প্রয়োজন নির্দিষ্ট কিছু জায়গা। এতে ঘরের ভেতরটা যেমন দেখতে ভালো লাগে, তেমনি দরকারের সময় আপনি জানবেন কোন জিনিসটা কোথায় রাখা আছে।  

ঘরের ছোট থেকে বড় যেকোনো জিনিস গুছিয়ে রাখতে বাস্কেটের ব্যবহার এখন অনেক ট্রেন্ডি। বিভিন্ন সাইজ এবং আকৃতির বাস্কেট হতে পারে ঘর সাজানোর নতুন এক সমাধান। চলুন জেনে নেয়া যাক ঘর সাজাতে কোথায় এবং কী কী উপায়ে ব্যবহার করা যাবে নানান আকৃতির এই বাস্কেটগুলো।

গাছ সাজাই প্ল্যান্টার বাস্কেটে

ঘরের ভেতর বা বাহিরে রাখা ছোট বা মাঝারি আকৃতির ফুল বা পাতাবাহার গাছের টব দড়ি বা পাটের ঝুড়িতে রাখা এখন বেশ ট্রেন্ডি। প্লাস্টিকের রঙিন পট বা মাটির টবে থাকা গাছগুলো আরও সুন্দর দেখাতে ব্যবহার করতে পারেন বেত, দড়ি বা পাট দিয়ে বানানো বাস্কেট। বাস্কেটের সাইজ কেমন হবে তা নির্ভর করবে আপনার বাসায় থাকা প্ল্যান্টস বা গাছের টবের আকৃতির উপর। কাজটা খুবই সহজ, মাটির টব বা পাত্রটি প্ল্যান্টার বাস্কেটে রেখে পছন্দমতো জায়গায় সাজিয়ে রাখুন, চাইলে হ্যাং করে বা ঝুলিয়েও রাখতে পারেন ছোট গাছগুলো।    

বাঁশ, বেত, পাট, হোগলাপাতা, খেজুরপাতার তৈরি ঝুড়িগুলো যেন আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো দেখতে যেমন ট্রেন্ডি, তেমনি রয়েছে সংস্কৃতির ছোঁয়া। ঘরের সাজে যা যোগ করে ভিন্ন একমাত্রা। ফলমূল, খাবার রাখা ছাড়াও ঝুড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে খেলনাসহ ঘরের বিভিন্ন জিনিস রাখার জন্য।

রান্নাঘরে থাকুক সব সঠিক জায়গায়

বাসার অন্যান্য সব ঘর থেকে যে জায়গাটা গোছানো রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তা হল রান্নাঘর। যদিও আজকাল সব রান্নাঘরেই কেবিনেট করা থাকে তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে তেমন একটা অসুবিধা হয় না। তবে এক্ষেত্রে কেবিনেটের বাইরে রাখা কাঁচের জার, মসলা কিংবা নাশতার জন্য রাখা জ্যাম-জেলি বা ব্রেড যদি মাঝারি সাইজের কোনও বাস্কেটে রাখা হয়, তবে তা গোছানো থাকবে, দেখতেও ভালো দেখাবে। রান্নাঘর বা ডাইনিং টেবিলের জন্য মানানসই হবে এমন বাস্কেট কিনে তা সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দমতো জায়গায়। চাইলে বাস্কেটের বর্ডারটা রঙিন রিবন দিয়ে ডিজাইনও করে নিতে পারেন।

স্টাডি রুমের দরকারি সব থাকুক মিনি বাস্কেটে

ষ্টেশনারী জিনিস এলোমেলো ভাবে এদিক-সেদিক না রেখে মিনি বাস্কেটে রাখলে অগোছালো দেখাবে না। এক্ষেত্রে জিনিস ভেদে ছোট ছোট বিভিন্ন বাস্কেট ব্যবহার করতে পারেন। আর কোন বাস্কেটে কোন আইটেম রাখা হলো তা বুঝার সুবিধার্তে একটু মোটা ধরনের রঙিন কাজ নিয়ে সাইনপেন বা মার্কার দিয়ে নাম লিখে তা বাস্কেটের উপরে বা পাশে আটকে দিন। কালারফুল স্টিকি নোটসও ব্যবহার করতে পারেন।

অন্যদিকে বুকশেলফে বই রাখার বরাবরের নিয়ম পাল্টে ছবিতে দেখানো নিয়মে মাঝারি বা বড় বাস্কেট নিয়ে এর মধ্যে ফাইল, বই, ম্যাগাজিন ভাগে ভাগে নাম লিখে রাখলে তা দেখতে অনেক বেশি সাজানো দেখাবে। জায়গাটা আরেকটু সুন্দর করে তুলতে ফোকাস লাইট অথবা ল্যাম্প এবং ছোট ধরনের গাছ রাখলে তা দেখতে আরও সুবিন্যস্ত দেখাবে।  

ঝুড়ি ভর্তি টেডি-টয়!

বিশেষ করে যাদের ঘরে ছোট বাচ্চা আছে, তাদের জন্য খেলনা গুছিয়ে রাখা বিশাল এক চ্যালেঞ্জই বলা যায়। নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে পুরো বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় আর কিছু থাকুক বা থাকুক, খেলনা পাওয়া যাবে এটা নিশ্চিত। আর বাচ্চারা যেহেতু যখন-তখন খেলনা বের করে ফেলে, তাই ড্রয়ারে বা কেবিনেটে খেলনা তুলে রাখা বৃথা কাজই বলতে পারেন। এরচেয়ে বিভিন্ন রুমের কোণায় কাপড়ের বাস্কেট বা ঝুড়ি রেখে দিন, খেলা শেষে খেলনাগুলো ঝুড়ি ভরে রেখে দিন। দেখবেন আপনার দেখাদেখি খেলা শেষে বাচ্চারাও খেলনা ঝুড়িতে রেখে দিচ্ছে। তবে আর চিন্তা কী!    

কাপড় অথবা সুতার বিভিন্ন ডিজাইনের ঝুড়ি কিনে নিয়ে তা ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখুন। আর দুই সপ্তাহ পরে হালকা করে ধুয়ে বা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। ব্যাস, খেলনা গুছিয়ে রাখার দারুণ একটা ব্যবস্থা হয়ে গেল।  

সিঁড়ির কোণের জন্য কর্নার বাস্কেট

ডুপ্লেক্স বাসাগুলোর সিঁড়ির কোণে বাস্কেট রেখে সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন ছাতা, পত্রিকা বা ম্যাগাজিন অথবা ড্রাই ফ্লাওয়ার এর স্টিক রাখা যেতে পারে। এতে একদিকে ডেকোরেশন করা যেমন হবে, তেমনি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা কিংবা পত্রিকা হাতে নিয়ে বের হতে পারবেন খুব সহজেই। ছাতা না নিয়ে বের হওয়ার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে অনেকাংশেই।  

বাস্কেট বা ঝুড়ি হতে পারে বিভিন্ন সাইজ এবং আকৃতির। গোলাকার, ওভাল শেপ, লম্বাটে কিংবা চ্যাপ্টা ধরনের। প্রয়োজন ভেদে বাসার কোন অংশের জন্য বাস্কেট নিচ্ছেন, তা ভেবে কিনলে ঘরে রাখলে তা দেখতেও বেশ ফ্যাশানেবল দেখাবে।

ধোয়ার জন্য কাপড় থাকুক লন্ড্রি বাস্কেটে

নিয়মিত বাসার বাইরে গেলে কাপড় তো ময়লা হচ্ছে, আর এর সাথে দৈনন্দিন ঘরে পরার কাপড় তো থাকছেই। রীতিমত কাপড়ের ছোটখাটো একটা পাহাড় হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর যদি বাসায় বাচ্চা থাকে, তবে তো আর কথাই নেই। ঘরে কাপড় এলোমেলো থাকলে তা দেখতে বেশ অগোছালো লাগে। আর তাই অপরিষ্কার কাপড়ও এদিক-সেদিক ফেলে না রেখে বরং সেগুলো একসাথে করে রাখুন লন্ড্রি বাস্কেটে।

এক্ষেত্রে বাচ্চাদের কাপড়ের জন্য আলাদা বাস্কেট রাখতে পারেন। আবার সাদা রঙের কাপড়ের জন্য ভিন্ন বাস্কেট ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে পরবর্তীতে কাপড় ধোয়ার কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে, আবার এক্ষেত্রে কাপড় গুছিয়ে রাখার একটা সহজ ব্যবস্থাও হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজ এবং আকৃতির বাস্কেট।

বাস্কেট হতে পারে বাঁশের তৈরি, অথবা বেতের কিংবা পাটের তৈরি। স্টিল এবং প্লাস্টিকের বিভিন্ন রঙের বাস্কেটও এখন পাওয়া যায় পান্থপথ-সহ, কলাবাগান, নিউমার্কেট, মিরপুর-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায়। সুযোগ থাকলে ঢাকার বাইরে থেকেও কিনতে পারেন বেতের বিভিন্ন ধরনের বাস্কেট। যার দাম বাস্কেটের সাইজ এবং আকৃতি ভেদে একেক জায়গায় একেক ধরনের হয়ে থাকে। কেনার আগে অবশ্যই তাই ভালো মতো দেখে কিনতে হবে আর যত্নও করতে হবে যেন অতিরিক্ত ধুলোবালি পড়ে রঙ নষ্ট না হয়ে যায়।   

ঝুড়ি ব্যাগ কিনতে চাইলে এছাড়া আরও যেতে পারেন আড়ং, যাত্রা, জয়িতা, দোয়েল চত্বর, সোর্স, ইউনিমার্ট-সহ বিভিন্ন জায়গায়। নকশা ও আকারভেদে বাঁশ, বেত, পাট, হোগলা ও খেজুরপাতার এসব ঝুড়ির দাম পড়বে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকার মতো।

শুধু তাই-ই নয়, ধোয়ার জন্য রাখা অপরিষ্কার কাপড়, এমনকি ফুলের টব হিসেবেও এই ঝুড়ি ব্যবহার করা যায়। ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে দারুণ এই ঝুড়িগুলো তাই হতে পারে ঘর সাজানোর নতুন এক উৎস।

  •  
  •  
  •  
  •   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *