parallax background

ঘরের সাজে নানান স্টাইল

By Tasnim Jarin

ঘরের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য আমরা সাধারণত আমাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেই, কিন্তু কখনো আবার স্টাইলিং নিয়েও কাজ করতে পছন্দ করি। আর এরই ধারাবাহিকতায় ঘরের লুকে পরিবর্তন আনতে কখনো ভিনটেজ, কখনো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান, একলেকটিক কিংবা মিনিমালিস্টিক ইত্যাদি পছন্দের স্টাইলে ঘর সাজানোর জন্য চলে নানান ধরনের পরিকল্পনা। নিজের স্বপ্নের ঘরকে আরও স্পেশাল করে তুলতে তাই আপনি কোন স্টাইলটি বেছে নিবেন চলুন নানান ধরনের স্টাইল সম্পর্কে জেনে তবেই ধারনা নেয়া যাক!  

হোম ইন্টেরিয়র ডিজাইনে জন্য নিজের পছন্দ, পরিবারের সদস্যদের চাহিদা এবং ব্যক্তিত্বের সাথে মিল থাকে এমন ধাঁচেই আমরা ঘর সাজাতে পছন্দ করি। তবে নির্দিষ্ট কোন স্টাইল অনুসরণ করে যদি নিজের অনুভূতিগুলোকে ঘরের প্রতিটি দেয়ালে, প্রতিটি কোনায় এঁকে দেয়া যায়, তবে তো তা বিশেষ হবেই! আর তাই প্রতিটি স্টাইল এর বৈশিষ্ট সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকা উচিত।  

ভিনটেজ স্টাইল

ভিনটেজ স্টাইল মানেই হল যেখানে আধুনিক ডিজাইনের সাথে পৌরাণিক ধাঁচের একটা মিশ্রণ থাকবে। বিশেষ করে যারা অ্যান্টিক জিনিস সংগ্রহ করতে এবং সেসব জিনিসের সাথে মিল রেখে ঘরের ডিজাইন করতে পছন্দ করেন তাদের কাছে ভিনটেজ স্টাইল অন্যতম পছন্দের একটা স্টাইল। ক্লাসিক্ থিম সাথে কনটেম্পোরারি সময়ের আদলে ঘর সাজাতে তাই প্রতিটি এলিমেন্টসও নির্বাচন করা হয় যত্নের সাথে। এই স্টাইলের প্রধান ফোকাস থাকে দেয়ালের রঙে। আর এর সাথে কন্ট্রাস্ট করে আসবাব, পর্দার ডিজাইনে গাঢ় রঙ ব্যবহার করা হয়।

unnamed.jpg

এই স্টাইলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই স্টাইলে কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। আপনি চাইলে অন্য যেকোনো স্টাইলের সাথে ভিনটেজকে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। আধুনিক ডিজাইনের মতো সাদা দেয়ালও যেমন করতে পারবেন, তেমনি গাঢ় রঙেও দেয়াল রঙ করতে পারবেন। এখানে মূলত মডার্ন ডিজাইনের সাথে পুরনো স্টাইলকেও প্রাধান্য দেয়া হয়।

ভিনটেজ স্টাইলের অন্যতম আকর্ষণ হল ঘরের আসবাব। কাঠের ব্যবহার করা হয় এই স্টাইলে সবচেয়ে বেশি। কাঠের রঙের পাশাপাশি লেকার রঙও ব্যবহার করা হয়। সাদা রঙের দেয়ালে এই ধরনের গাঢ় রঙের আসবাব এই স্টাইলটিকে আরও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলে।    

unnamed.png

এ ধরনের ডেকোর স্টাইলে লাইটিং এর জন্য হলুদ আলোর বড় ল্যাম্প ব্যবহার করা হয়। আর ঘরের বিভিন্ন কোনায় এবং হাইলাইট করার জায়গা গুলোতে লাগানো হয় ফোকাস লাইট। এছাড়া আর্টওয়ার্ক এর ব্যবহারও করা হয় ভিনটেজ স্টাইলে। 

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্টাইল

ফাংশানিলিটি, সিম্পলিসিটি এবং কম্ফোর্টিবিলিটি এর কথা ভাবলে যে স্টাইলটির কথা না বললেই না, তা হল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্টাইল। ছিমছাম ডিজাইনে ঘর সাজানোর জন্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্টাইল বেশ মানানসই। সাধারণ লাইফস্টাইলকে প্রাধান্য দিয়েই মূলত এই ডিজাইন করা হয়। এই স্টাইলে ঘরে বড় জানালার ব্যবস্থা রাখা হয় যেন প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করতে পারে খুব সহজে।

modern-scandinavian-living-room-interior-3d-render-picture-id961334436_1024x1024.jpg

অন্যদিকে রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিউট্রাল কালার যেমন সাদা, ধূসর, বেইজ এগুলো বেশি প্রাধান্য পায়। সাধারণ শব্দটি যেন এই স্টাইলের সাথে সবচেয়ে বেশি মানায়। কেননা এখানে আপনি জাঁকজমক কিছুই দেখবেন না, কিন্তু স্নিগ্ধতা বজায় থাকবে নিশ্চিতভাবে। রাগস, কুশন, পেইন্টিং- এই এলিমেন্টসগুলো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্টাইলে প্রাধান্য পায়। আর সবকিছুর মধ্যে সিম্পল একটা ভাইব ফুটিয়ে তোলা এই স্টাইলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একলেকটিক স্টাইল

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এর ঠিক বিপরীত স্টাইল একলেকটিক ডেকোর স্টাইল। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্টাইলে সিম্পলিসিটি যেমন প্রাধান্য পায়, তেমনি একলেকটিক ডিজাইনে বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্ন, আর্ট ওয়ার্ক, উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার, পেন্ডেন্ট লাইট ইত্যাদি সব কিছুই জায়গা করে নেয়। একলেকটিক স্টাইলের ক্ষেত্রে আরামদায়কতা মূল বিষয় নয়, বরং একটা রাফনেস টেক্সচারই যেন এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।  

একলেকটিক স্টাইলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ক্লাসিক ফ্লোরাল প্রিন্ট এবং জ্যামিতিক ডিজাইনের ইলিউশন। জ্যামিতিক প্যাটার্নগুলোও এই স্টাইলকে আরও ভালোভাবে হাইলাইট করে। এ ধরনের ডেকোর স্টাইলে লাইটিং এর জন্য আলোর ব্যবহারও হয় অধিক। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ল্যাম্প লাইট এর ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া ফটোফ্রেম এবং আর্টওয়ার্ক এর ব্যবহার তো থাকছেই!  

মিনিমালিস্টিক স্টাইল

মিনিমালিস্টিক বা ওপেন ইন্টেরিয়র ডিজাইন যারা পছন্দ করেন তারা ঘরের পরিবেশকে সাধারণ রাখতে খুব বেশি আসবাব ব্যবহার করেন না। খোলামেলা আবহের ঘরের এই স্টাইলে মিনিমালিজম সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। এর মানে হলও এই স্টাইলে ভারী কোন আসবাব, পর্দা বা চোখে পড়বে এমন কোন কিছুকে ঘরে হাইলাইট করা হয় না। ঘরের ইন্টেরিয়রে ওপেননেস বা খোলামেলা একটা ভাব থাকে। যেন খুব সহজেই ঘরে চলাফেরা করা যায় এবং ঘরে চলতে যেন আসবাবপত্রকে বাধা মনে না হয়। তাই কোন কিছুর আধিক্যকেই এই স্টাইলে এড়িয়ে চলা হয়।  

ছিমছাম ডিজাইন কিন্তু আধুনিক সাজে সাজানো ঘরের প্রতিটি কর্নার যেন বলে প্রকৃতির কথা। কেননা এখানে বেতের আসবাব যেমন ব্যবহার করা হয়, তেমনি প্ল্যান্টসও জায়গা করে নেয় ঘরের বিভিন্ন কোণে। আরামদায়কতা এখানে যেমন প্রাধান্য পায়, তেমনি পরিপাটি একটি লুকে ঘর সাজানোর বিষয়টিও উঠে আসে পুরো ঘর জুড়ে। রঙের ক্ষেত্রে এই স্টাইলে বেছে নেয়া হয় খুব হালকা শেড, যা কিনা স্মুথনেস এবং শান্তি দুইটি বিষয়কেই হাইলাইট করে। আর তাই যারা কম আসবাব, হালকা ডিজাইনে ঘর সাজাতে পছন্দ করেন তাদের কাছে মিনিমালিস্টিক স্টাইল বেশ পছন্দের।

আর তাই ঘর সাজাতে আপনি কোন স্টাইলটি বেছে নিবেন তা নির্ভর করবে আপনার ব্যক্তিত্ব এবং পছন্দের উপর। সিম্পল মডার্ন স্টাইল কিংবা কালারফুল থিম আপনার পছন্দ যেমনই হোক না কেন, ঘর সাজানোর জন্য স্টাইলটি হওয়া চাই মানানসই। ঘরের আয়তনের উপর নির্ভর করেও তাই স্টাইল নির্বাচন করা উচিত। এতে করে আপনার লাইফস্টাইলের একটি প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে ঘরের প্রতিটি দেয়ালে, যা বলে উঠবে আপনারই গল্প, আপনার অনুভূতির কথা।     

  •  
  •  
  •  
  •   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *