parallax background

ঘর সাজুক আয়নায়

By Kazi Sadia Islam Roza

কথায় বলে মনের আয়নায় ভেসে ওঠে আপনার আত্মার প্রতিচ্ছবি, সেটা নাকি চোখের ভাষায় ফুটে ওঠে। আয়নায় শুধু আমরা নিজের চেহারার প্রতিচ্ছবি না, আত্মার প্রতিফলনও দেখতে পাই আর তাই হয়ত আয়না থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া স্বভাবতই কঠিন। আয়না আপনাকে মনে করিয়ে দেয় আপনি কতটা সুন্দর, কতটা প্রিয় নিজের কাছে, কতটা ভালো আপনি নিজেকে বাসতে পারেন। ঘরময় আয়না তাই  হয়ে উঠতে পারে আপনার নিজস্বতা প্রকাশের ভঙ্গি, আয়না দিয়ে নানা ভাবে দেয়াল সাজিয়ে ঘরকে আপনি দিতে পারেন ব্যক্তিত্বের অন্য মাত্রা। 

কোথায় সাজাবেন আয়না? 

 ঘরের ঠিক কোন কোন কোণায় আয়না থাকবে সেটা নির্ভর করবে আপনার ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্র ও দেয়ালের উচ্চতার উপরে। এমন কিছুর বিপরীতে আয়নার স্থান নির্ধারন করা উচিৎ যেটা চোখের সৌন্দর্য বর্ধন করে। যে কোন পেইন্টিং যেমন আই-লেভেলে রাখলে তা আকর্ষন ধরে রাখে, তেমনি আয়নার ক্ষেত্রেও চোখের দৃষ্টির বিবেচনায় স্থান নির্ধারন যথাযথ হওয়া উচিৎ। তবে আয়নার সর্বদা উদ্দেশ্য শুধু মাত্র মানুষের প্রতিচ্ছবি’র প্রতিফল না, তাই ঘরের অন্যান্য অনেক কিছুর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আয়নার স্থান নির্ধারন ভিন্ন হতে পারে। 

বড় আয়নায় সাজুক ঘরঃ 

আপনার ঘরের আয়তন চিন্তা করে যে দেয়ালে আয়না বসাতে হবে ব্যাপারটা তেমন না। অনেক ধরনের এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ আছে যা আপনি আয়নার মাধ্যমে করতে পারেন। ছোট ঘরে বড় আয়না, চোখের দৃষ্টিতে ঘরের পরিধিও বড় করে দেয়। সিলিং-এ আয়না সব সময় ছাদের উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়, ঘরকে প্রশস্ত মনে হয়। 

ফোকাল পয়েন্টে আয়নার অবস্থানঃ 

ঘরের লাইটিং সাধারণত ফোকাল পয়েন্টের অবস্থান অনুযায়ী করা হয়। ঘরের সব দিকে আলো ছড়িয়ে পড়ার জন্যই এই ব্যাপারটি মাথায় রাখা হয়। আয়নার ক্ষেত্রেও ফোকাল পয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের আলো আর আয়না মিলেমিশে এক ধরনের ইলিউশন তৈরি করতে পারে। ডাইনিং আর ড্রয়িং রুমের ক্ষেত্রে এই টেকনিকটা বেশি ব্যবহার করা হয়। 

ছোট ছোট আয়নায় সৌন্দর্য বর্ধনঃ 

ফটোফ্রেমের দেয়ালের মত, আপনি সাজাতে পারেন আপনার একান্ত নিজস্ব আয়নার দেয়াল। আয়না গুলো নানা সাইজের এবং ধরনের হতে পারে, ছোট ছোট নানা ধরনের আয়না এখানে নিজের পছন্দ মত ব্যবহার করা যাবে। সাজানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে দেয়ালের কোন উচ্চতা থেকে আয়নার প্লেসমেন্ট শুরু হবে এবং কম্পোজিশন অনুযায়ী কোথায় শেষ হবে। 

ফার্নিচারে আয়নার সংযোজনঃ 

আপনার ওয়ারড্রব, আলমারি, শো-কেইসে খুব সহজেই আয়নার সংযোজন করা সম্ভব। শুধু দেয়লে বা ড্রেইসিং টেবিলে আয়নার ব্যবহার না করে আপনার পছন্দের ডিজাইনের যে কোন ফার্নিচারে আয়নার সংযোগ ঘটানো যায়, এতে ফার্নিচারটি যেমন অন্যমাত্রা পায় তেমনি সাধ্য ও শখ-ও পূরণ হয়।  

স্মৃতির সাথে মুহূর্তের বন্ধনঃ 

 ঘরের দেয়ালের ছবির ফ্রেমের মাঝ বরাবর একটি আয়না সাজালে এক চমৎকার মেলবন্ধন হয় আপনার অতীত আর বর্তমানের। ঘরের দেয়ালের ছবির ফ্রেম যেমন আপনি স্মৃতিকে জড়িয়ে রাখবেন তেমনি আয়নায় প্রতিদিন নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে আপনি খুঁজে পাবেন নিজেকে। চমৎকার সব ফ্রেমের আকার ও সেটাপ অনুযায়ী আপনার আয়নাটিও বাছাই করতে হবে, তবেই দেয়ালে ফুঁটে উঠবে স্মৃতির সাথে মুহূর্তের বন্ধন। 

ছোট পরিসরের ঘরকে সুন্দর ও বড় দেখাতে আয়নার ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়৷ আয়নায় প্রতিচ্ছবি ঘরকে নিজস্বতা দেয়। আয়নার নকশা আর আয়তনটা নির্ভর করবে কোন ঘরের দেয়ালে তা লাগাচ্ছেন তার ওপর এবং কেমন ধরনের বাজেটে আপনি আয়না কিনছেন সেটাও। ঘরের প্রবেশপথের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিতে পারেন আয়তাকার নকশার আয়না৷ ঘরের যেকোনো একটা সুবিধাজনক দেয়ালকে ডেকোরেটিভ করে তুলতে একটা বর্গাকৃতি আয়না ঝুলিয়ে দিন। এর নিচে একটি তাকে মাটির তৈজসপত্র আর গাছ রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গাছ রাখতে বাঁশের তৈরি পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। এদিকে বসার ঘরের দেয়ালে দেশীয় আয়নাও ভালো লাগবে।

আপনার ঘরের অন্যান্য আসবাব, পরিধি আর নিজের রুচি অনুযায়ী আয়না কিনে খুব সহজেই ঘরকে সাজিয়ে তুলতে পারবেন নিজের মনের আয়নার মত করে।  

  •  
  •  
  •  
  •   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *