parallax background

গায়ে হলুদে ফিউশন: কেমন হয় বলুন তো?

By Tasnim Jarin

হলুদ, মেহেদি, অতঃপর বিয়ে; গত আট মাস ধরে এই তিনটি দিনের কথাই যেন মাথায় ঘুরছিলো। সাজটা কেমন হবে? শাড়ি নাকি লেহেঙ্গা? কোন দিন কোন রঙ বেছে নিবো? ফুলের গহনা হবে নাকি রূপার গহনা? কোন কোন গানগুলো যেন না রাখলেই নয়? ধুর! মাথায় যেন একসাথে সব জ্যাম লেগে গেলো! কিন্তু কী করার! দীর্ঘ ৫ বছরের পরিচয়, ৩ বছরের প্রেম, অবশেষে ৮ মাসের অপেক্ষা; সংখ্যাটা বলে ফেলা যতটা সহজ ছিলো, অংকের হিসাবটা মেলানো ছিলো ততটাই কঠিন! আর এখন এই আট মাস পরে এসে, নিজে কতটা সফল? জ্বি, তারই একটা মুহূর্তের বা একটা অংশের গল্প আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আর আমি কে…? হাহা, আমিই হচ্ছি এই গল্পের নায়িকা! বলছি, বধূ সাজে আমার গায়ে হলুদের গল্পটা, বেশ ইন্টারেস্টিং কিন্তু! চলুন, আমার পাগলামীর গল্পটা কেমন ছিলো, আজকে শোনাই সবাইকে!

বরাবরের মতোই আমার চিন্তা-ভাবনা গতানুগতিক স্টাইল থেকে কিছুটা ভিন্ন। আয়োজনটা হয়তো একই থাকবে, কিন্তু প্রেজেন্টেশনে থাকা চাই ভিন্নতা। কিন্তু…কীভাবে? আমার মা ছিলেন শাড়ির পরার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী একজন মানুষ। তার কালেকশনে নেই, এমন ধরনের শাড়ি পাওয়াই মুশকিল! আর তাই হলুদের ড্রেসটা কেমন হবে, তা ভাবতে আমার খুব একটা বেশি কষ্ট করতে হলো না। মায়ের শাড়ির বিশাল সম্ভার থেকে সবুজ কাতানে সোনালি কাজের একটা বিশেষ শাড়ি বেছে নিলাম আমার হলুদের জন্য। না না, আমি কিন্তু শাড়ি পরিনি! শাড়িটা দিয়ে আমি বানিয়ে নিয়েছি ‘একটা ডিজাইনার লেহেঙ্গা’!

লেস, টারসেল, শার্টিনের কাপড় আর ওড়না হিসেবে কন্ট্রাস্ট কালারের নেটের কাপড় কিনে, তাতে লেস দিয়ে ডিজাইন করে নিলাম, ব্যাস আর কী লাগে! ভাবছেন নিজের জন্য একটা নতুন লেহেঙ্গা না কিনে কেন পুরানো শাড়ি দিয়ে লেহেঙ্গা বানালাম? মায়ের ভালোবাসা জড়ানো শাড়ি পরে নিজের হলুদ আয়োজন হবে, এর থেকে বেস্ট কি আর কিছু হতে পারে, বলুন তো? আর অনুষ্ঠানে মেয়েদের জন্য হলুদের ড্রেস কোড রাখলাম কাতান শাড়ি, আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবী তো থাকছেই।  

গহনা হিসেবে আমার পছন্দ হলো তাজা ফুল আর পার্ল। আর তাই পছন্দমতো রঙের অর্কিডের সাথে পার্লের কম্বিনেশনটাও বেশ মানিয়ে গেলো। আর এই ফুলের গহনার অর্ডার আমি দিয়েছিলাম শাহবাগ থেকে। ডিজাইন এবং ফুলের উপর বিবেচনা করে দাম বিভিন্ন রকমের হতে পারে। অর্কিড ফুলের গহনার জন্য বাজেট ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার রাখলেই হয়ে যাবে। তবে ডিজাইনের উপর নির্ভর করে এর দাম আরও বেশি হতে পারে। তবে গোলাপ, গাঁদা ফুল কিংবা বেলি ফুলের গহনায় যেমন দাম এর চেয়ে কম পড়বে, তেমনি জারবেরা বা গ্লাডিওলাস ফুলের গহনায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করা লাগতে পারে।

অনুষ্ঠানের পুরো আয়োজনের দায়িত্ব কোনও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টকে না দিয়ে, বাড়ির বড় ছাদে বন্ধুরা মিলেই করে ফেললাম সব প্ল্যান। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডিজাইন দেখে স্টেজ ডেকোরেশন করা হলো সিনেমার স্ক্রিনের থিমে, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে বর আর বউ-এর কার্টুন ক্যারেক্টার কাট-আউট রাখা হলো। আর পাশে রাখা ব্যানারে তাদের নাম। এছাড়া ফুলের ডেকোরেশন তো ছিলোই। সাথে আর্ট পেপার দিয়ে মজার কিছু প্রপ্স বানানো হয়েছিলো, আর হলুদ স্পেশাল দারুণ কিছু গানের পারফরম্যান্সও রেডি করা হলো!

হলুদের অনুষ্ঠানে খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছিলো চটপটি, ফুচকা, গরম গরম জিলাপি আর ঝালমুড়ির মতো মজাদার সব খাবার, সাথে মেইন ডিশ হিসেবে তেহারি তো ছিলোই। আর স্টেজে রাখা ছিলো এক থাল ছোট ছোট মিষ্টি, বউ-এর পছন্দের রেড ভেলভেট কেক, কাবাব আর মজাদার গুড়ের পায়েস।

ওহ হ্যাঁ, ফিউশনের আসল গল্পটা তো করাই হলো না! সবুজ কাতান আর অর্কিড ফুলের সাজে বউ-এর পায়ে ছিলো এক জোড়া স্নিকারস, আর চোখে ছিলো একটি নকশা করা সানগ্লাস। ব্যাস, হলুদের ফিউশন সাজে বধূ যে একেবারেই প্রস্তুত!

আর হ্যাঁ, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, সুন্দর এই মুহূর্তগুলো ফ্রেমেবন্দী করার জন্য আমার এক বন্ধুর সাথে আগেই রীতিমত চুক্তি করা ছিল যে, আমার হলুদের অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফার হিসেবে তাকে চাই-ই চাই! শুধু যে হলুদের অনুষ্ঠানের ছবি ফ্রেমবন্দী হবে তা কিন্তু নয়, হলুদের প্রস্তুতির ছোট থেকে ছোট মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে রাখতে হবে, আর তাই প্রস্তুতির সময় থেকে বন্ধু আমার তার দল নিয়ে ক্যামেরাবন্দী করেছে প্রতিটি মুহূর্ত। যদিও বন্ধু আমার প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, তবে মূল অনুষ্ঠানের জন্য আমার প্ল্যান ছিল গতানুগতিক ছবির বাইরে ক্যান্ডিড ফটোগ্রাফি করা হবে খানিকটা বেশি। ক্যান্ডিড ছবি সাধারণ মুহূর্তগুলোকে আরও বেশি জীবন্ত করে তুলে। আর পরবর্তী সময়ে সেই ছবিগুলো দেখে দারুণ ঐ মুহূর্তগুলোর কথা মনে করার মজাই যে আলাদা! তাই, নাচের পারফরম্যান্সের সাথে সাথে ফটোগ্রাফির কাজটাও বন্ধুরা মিলেই করে ফেললো। প্রপ্স নিয়ে মজার মজার সব ছবি, পরিবার আর বন্ধুদের সাথে তোলা হলুদের ক্যান্ডিড সেই মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দী হয়ে রইলো পরবর্তী সময়ের জন্য।

আর ঠিক এভাবেই বাড়ির ছাদে আয়োজন করা হলো হলুদের অনুষ্ঠান। গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে এসে এখন আপনি নিজেই প্ল্যান করতে পারেন নিজের হলুদের কিংবা মেহেদির অনুষ্ঠানের আয়োজন। এতে করে একদিকে যেমন বাজেট ফ্রেন্ডলি হবে, অন্যদিকে বন্ধুর দল আর আত্মীয়স্বজন মিলে উপভোগ করতে পারবেন ঘরোয়া হলুদ আয়োজন। তো আপনি আপনার হলুদের আয়োজনে কী করেছেন বা করবেন ভাবছেন?   

  •  
  •  
  •  
  •   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *